দুর্নীতিতে ক্ষতি জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ: মুহিত



বাংলাদেশে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জিডিপির আরও ১ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঋণদাতাগোষ্ঠীর স্থানীয় পরামর্শক গ্রুপের (এলসিজি) সঙ্গে এক বৈঠকে এই তথ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে সরকার তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরকিল্পনার খসড়া নিয়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে দাতাদের সঙ্গে এ বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম্এ মান্নান ও উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন সংস্থা প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বাজার মূল্যে দেশের জিডিপির আকার বর্তমানে ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির ৩ শতাংশ ধরলে দুর্নীতির কারণে বছরে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

এ বছর টানা সপ্তমবারের মতো বাজেট দেওয়া মুহিত এর আগেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

দলের মধ্য থেকে ‘বাধা’ পাওয়ায় হল-মার্ক জালিয়াতির আসামি সব ব্যাংক কর্মকর্তাদের ধরা যাচ্ছে না বলেও সম্প্রতি তিনি সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১ কোটি ৮৭ লাখ কর্মসংস্থানের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্থমন্ত্রীর ভাষায় অত্যন্ত ‘উচ্চাভিলাসী’।
এ লক্ষ্য পূরণ করা ‘খুবই কঠিন’ হবে বলেও দাতাদের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়ার বক্তৃতায় তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহিত বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী দেশে বেকারের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। এ সংজ্ঞায় দেশে বেকারের বাস্তব চিত্র আসেনি। বাস্তবে দেশে বেকারের সংখ্যা আরও বেশি।”

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত যুবকের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার। এর মধ্যে বেকারের সংখ্যা ১৯ লাখ ৫১ হাজার।

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান ‘সন্তোষজনক’ হলেও মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষার মান ‘ভালো নয়’ মন্তব্য করে তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী।

টানা ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ ৬ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে তার পেছনে জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার কমে আসার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মুহিত বলেন, “সামাজিক সুরক্ষায় বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ অনন্য। কিন্তু এদেশে আয় বৈষম্য বেশি। এটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।”

সপ্তম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে নিয়ে যাওযার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন হবে। পাঁচ বছরে দাতাদের কাছ থেকে এ অর্থ সংগ্রহে করণীয় নির্ধারণেই এলসিজির সঙ্গে সরকারের এই বৈঠক।

সঙ্গে টানা ছয় বছর ধরে ছয় শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টিও উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকে সল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে দাতাদের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া হবে বৈঠকে।


July 11, 2015, 6:17 pm
পূর্ববর্তী সংবাদ<<    পরবর্তী সংবাদ>> Share on Facebook
  • সর্বশেষ সংবাদ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বাধিক মতামত

Name  
Email  
Country  
Comments